ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড
বিশেষ প্রতিনিধি:
ফরিদপুরে যৌতুকের এক লাখ টাকা না পেয়ে স্ত্রী রমা বিশ্বাস (২৫)কে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী মনোজিত সরকারকে (৪৩) আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আদায়কৃত জরিমানার পুরো অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে প্রদান করতে ফরিদপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ
সোমবার দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি মনোজিত সরকার আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
একই মামলায় অভিযুক্ত মনোজিত সরকারের ছয় স্বজন—বিপুল সরকার, সরজিৎ সরকার, লিটন সরকার, বিপ্লব সরকার, সবুজ সরকার ও দীপালী সরকার—এর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের বেকসুর খালাস দেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৫ সালে মধুখালী উপজেলার জারজননগর গ্রামের রঞ্জন বিশ্বাসের মেয়ে রমা বিশ্বাসের সঙ্গে একই উপজেলার কলাইকান্দা গ্রামের মনোজিত সরকারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে নগদ চার লাখ টাকা, সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরও এক লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হলেও ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল মনোজিত আবারও এক লাখ টাকা দাবি করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ওই টাকা দিতে না পারায় ২০১৮ সালের ২০ এপ্রিল বিকেলে মনোজিত সরকার স্ত্রী রমা বিশ্বাসের গলায় নাইলনের সুতা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে মধুখালী থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানান, পেটের ব্যথা সহ্য করতে না পেরে রমা আত্মহত্যা করেছেন।
তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এটি হত্যা বলে নিশ্চিত হওয়ায় রমার বাবা রঞ্জন বিশ্বাস ২০১৮ সালের ১০ মে মধুখালী থানায় মনোজিত সরকারসহ সাতজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করলেও বিচার শেষে আদালত কেবল মনোজিত সরকারকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, যৌতুক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আদালতের এ রায় সমাজে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।
Leave a Reply