ফরিদপুরে ‘মেহনতি মোটরযান চালক শ্রমিক ফেডারেশন’-এর জেলা কার্যালয় উদ্বোধন ও নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান
বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ মেহনতি মোটরযান চালক শ্রমিক ফেডারেশন ফরিদপুর জেলা শাখার নতুন অফিস কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন এবং সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মরহুম মো: আল-আমিন (আনিচ)-এর পরিবারকে নগদ অর্থ ও জমি কেনার আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল ৩:৩০ টায় ফরিদপুর শহর বাইপাস সড়কস্থ বায়তুল মামুর জামে মসজিদের বিপরীতে মন্ডল মার্কেটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশ মেহনতি মোটরযান চালক শ্রমিক ফেডারেশন ফরিদপুর জেলা শাখার আয়োজনে ও জেলা সভাপতি মো: আশরাফ শেখ-এর সভাপতিত্বে
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো: ইমরান হোসেন (সোহাগ),
ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, মো: রাজু আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মো: ওমর ফারুক।
এ সময় বিভিন্ন পর্যায়ের নের্তবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন ফরিদপুর জেলা শাখার কার্যকরী সভাপতি মোল্লা মনিরুজ্জামান।
নিহত চালকের পরিবারকে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার সহায়তা করে সংগঠনের নের্তবৃন্দরা।
সম্প্রতি কুষ্টিয়া বাইপাস সড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান বাস চালক আল-আমিন (আনিচ)। অনুষ্ঠানে মরহুম আল-আমিনের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
সহায়তার অংশ হিসেবে নিহত চালকের মায়ের হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর হাতে ২০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিবারটিকে জমি কিনে দেওয়ার উদ্দেশ্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত নগদ ১ লাখ টাকা স্ত্রী ও মায়ের হাতে একযোগে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় তাৎক্ষণিক আর্থিক সাহায্য পেয়ে অশ্রুসজল চোখে সংগঠনের উত্তরোত্তর সাফল্য, মঙ্গল ও সকল সদস্যের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানান নিহতের স্বজনরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, “আমাদের এই সংগঠনটি একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন। চালকরা নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে রেখে রাত-দিন হাড়ভাঙা খাটুনি খাটেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়—বেশিরভাগ শ্রমিকের আর্থিক অবস্থা শোচনীয়। কোনো দুর্ঘটনায় চালক মারা গেলে অর্থকষ্টে পুরো পরিবার এক লহমায় ধ্বংস হয়ে যায়; কেউ তাদের খোঁজ নেয় না। সরকার যদি শ্রমিকদের দিকে সময়মতো সঠিক নজর দিত, তবে হয়তো আলাদাভাবে এই উদ্যোগগুলোর দরকার হতো না।”
বক্তারা অনতিবিলম্বে এ পেশায় নিয়োজিত শ্রমিকদের সরকারি ঝুঁকি ভাতা বৃদ্ধি ও দুর্ঘটনাকবলিত পরিবারের ক্ষতিপূরণের সঠিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
Leave a Reply