ফরিদপুরে রেস্টুরেন্টের ফ্রিজে মিলল বিদেশী মদ-বিয়ার, কারাদন্ডসহ একশ টাকা জরিমানা
বিশেষ প্রতিনিধি:
ফরিদপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে শহরের পশ্চিম খাবাসপুরে অবস্থিত হান্ডি কড়াই নামের একটি রেস্টেুরেন্টের ফ্রিজে মিলেছিল বিদেশী মদ ও বিয়ার। ঘটনার পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ ধরনের দুটি ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিষয়টি তুচ্ছ ঘটনা হিসেবে খবরটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার(১৯ আগস্ট) সকাল থেকে মদ ও বিয়ারের দুটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ফেসবুক আইডিতে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে ১৭ আগস্ট বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দেব পাল এর নের্তৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রকাশ হওয়া দুটির ছবির মধ্যে একটিতে দেখা যায়, জেলা স্যানেটারী ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর কবিরুল হাসান ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দেব পাল ওই রেস্টেুরেন্টের একটি টেবিলে বসে আলাপ আলোচনা করছেন। একটি ছবিতে তাদের সামনে এক বোতল বিদেশী মদ ও এক বোতল বিয়ার রাখা। অপর একটি ছবিতে রেস্টেুরেন্টের বেসিনে হাতুড়ি দিয়ে মাদক দ্রব্যের একজন সদস্য মদের বোতল ও বিয়ার ধ্বংস করার দৃশ্য দেখা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুর শহরের বাসিন্দা আতিক হাসান নামের এক ব্যক্তি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে খাবাসপুরের জৈনক সোহাগ গাজীর কাছ থেকে তিনটি ঘর ভাড়া নিয়ে একটি চাইনীজ রেস্টুরেন্ট ও স্টার কাবাব নামের একটি খাবার হোটেল(এবং হান্ডি কড়াই নামের একটি খিচুড়ি মাংসের জন্য পৃথক পৃথক হোটেল পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে আতিক হাসান এক সময় শহরের খন্দকার হোটেলের বয় ছিলেন। বর্তমানে তিনি তিনটি রেস্টেুরেন্ট ও বেশ পরিমান সম্পদের মালিক। তার বিষয়টি নিয়ে শহরে বিভিন্ন মহলে কানাঘুষাও চলে। এর মধ্যেই তার রেস্টেুন্টের ফ্রিজে মদ-বিয়ার পাওয়া যাওয়ায় তার মাদক ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টতায় জড়িত থাকার অভিযোগ সামনে উঠে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে।
জানাগেছে, গত ১৭ আগষ্ট বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ম্যাজিষ্ট্রেট দেব পাল একটি নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালতে বের হন। এসময় তিনি আতিক হাসানের হান্ডি কড়াই নামের খিচুড়ী মাংসের রেস্টেুরেন্টের ফ্রিজ তল্লাশি করলে ফ্রিজে রেড লেভেল নামের এক লিটারের এক বোতল বিদেশী মদ ও একটি বিদেশী বিয়ার পান। পরে ম্যাজিস্ট্রেট নিজেই মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে খবর দেন।
খবর পেয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর কবিরুল হাসান, ম্যাজিষ্ট্রেট দেবপাল এর নির্দেশে পুরো এক বোতল মদ ও বিয়ার ধ্বংস করা হয়। পরে রেস্টেুরেন্টের ম্যানেজার মোঃ আলমগীর হোসেনকে (৪৫) পাঁচদিনের কারাদন্ড দেয় ও একশত টাকা জরিমানা করেন। মোবাইল কোর্টের মামলা নং ১২২/২৬।
এ সব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রেস্টুরেন্ট মালিক আতিক হাসান তার রেষ্টুরেন্টে অভিযান ও মদ,বিয়ার পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবী করে বলেন,বিষয়টি অনাকাঙ্খিত। আমি নিজে বেশী সময় দিতে পারিনা। ম্যানেজার ও আমার এক ভাগ্নে প্রতিষ্ঠানগুলো চালায়। আমার রেষ্টুরেন্টে সিসিটিভি নেই, থাকলে সঠিক তথ্য জানতে পারতাম যে, কে বা কারা এ কাজ করেছে। এছাড়া তার অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্যাস্ত আছেন বলে জানান এবং রেষ্টুরেন্টে চা খাওয়ার দাওয়াত দেন। তখন বিস্তারিত আলাপ করবেন বলেও জানান।
এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর কবিরুল হাসান জানান, ভ্রাম্যমান আদালতের একজন ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়মিত অভিযানে যান হান্ডি কড়াই রেস্টেুরেন্টে। এ সময় ফ্রিজে বিদেশী মদ ও বিয়ার পান। তাৎক্ষণিক তিনি আমাদের খবর দিলে আমরা সেখানে যাই এবং স্যারের নির্দেশ অনুযায়ী প্রসিকিউশন দাখিল করি। তবে তিনি বিষয়টিকে একেবারে ছোটখাটো বিষয় বলে মন্তব্য করেন। এসময় রেস্টেুরেন্ট মালিক আতিক হাসানকে ধরেও কেন ছেড়ে দেওয়া হলো এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোন উত্তর দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্রাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দেব পাল জানান, হান্ডি কড়াই রেস্টেুরেন্টের ম্যানেজারকে ৫ দিনের কারাদন্ড ও এক’শ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে যোগাযোগ করেন।
বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সুস্মিতা সাহা বলেন, ভ্রাম্যমান আদালত ওই রেস্টেুরেন্টের ফ্রিজের মধ্যে মাদক দ্রব্য পেয়েছে। তবে সেটা খোলা ছিল না ইনটেক ছিল তা উল্লেখ করা হয়নি। যেহেতু ওই প্রতিষ্ঠানের ওই জায়াগায় মাদক রাখার বিধান নেই এই কারণে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে পাঁচ দিনের কারাদন্ড ও একশ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
Leave a Reply