৫ আগস্টের পর বাজার দখল”
বোয়ালমারীতে হামলায় বিএনপি নেতাসহ আহত ২, ফের হামলার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা
বোয়ালমারী প্রতিনিধি:
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ এবার প্রকাশ্য সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। শনিবার বাজারে হামলায় সালথা উপজেলা বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ ও যুবদল নেতা সোলায়মান মাতুব্বর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ফের হামলা ও সংঘর্ষের আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ময়েনদিয়া বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে রাতে বাজারের ব্যবসায়ীরা সংবাদ সম্মেলন করে নিরাপত্তার দাবি জানান।
তাদের অভিযোগ, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। ওই সময় সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ তার সমর্থকদের নিয়ে বোয়ালমারীর পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান মাতুব্বর এবং তার ভাই সিদ্দিক মাতুব্বরের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর মান্নান মাতুব্বরসহ তার পক্ষের লোকজন এলাকা ছেড়ে যান। এ সময় ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ জিহাদের পক্ষের লোকজন নেয় বলে স্থানীয়দের দাবি।
পরে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আব্দুল মান্নান মাতুব্বরসহ তার পক্ষের লোকজন এলাকায় ফিরে এলে বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে ময়েনদিয়া দাইপাড়া এলাকায় একটি দোকানে হামলার ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের কয়েকজন সমর্থক ওই হামলা চালান। এতে কয়েকজন স্থানীয় যুবক আহত হন বলে তারা দাবি করেন।
পরদিন শনিবার সোলায়মান মাতুব্বর ময়েনদিয়া বাজারে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এ সময় এক ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ীর কাছে চার হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ জড়ো হলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে সোলায়মান আহত হন।
খবর পেয়ে মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ বাজারে গেলে তার ওপরও হামলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জিহাদের অভিযোগ, সোলায়মানকে উদ্ধারের পর একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার সময় রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও লোহার পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক সেখানে ঢুকে তার ওপর হামলা চালায়। এ হামলার জন্য তিনি আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তারা মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজনকে দায়ী করেন।
অন্যদিকে যুবদল নেতা মাহবুব হাসান সজিব এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর বাজারে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। বাজারকে তার প্রভাবমুক্ত করতে মুশফিক বিল্লাহ জিহাদকে উপদেষ্টা করা হয়েছিল। শনিবার মান্নান মাতুব্বরের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে জিহাদ ও সোলায়মান আহত হন।
ময়েনদিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মজিবর রহমান মোল্যা বলেন, ‘জিহাদ মিয়া লোকজন নিয়ে এলাকায় এসে হামলা চালান। সাধারণ দোকানি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়।’
ব্যবসায়ী মাওলানা মাসুদুর রহমান বলেন, ‘টুলু মিয়া, জিহাদ মিয়া, সুজন, সজিবসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে ময়েনদিয়া বাজারে চাঁদাবাজি করছেন। শনিবারও এক ব্যবসায়ীর কাছে চার হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল।’
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তারা মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বোয়ালমারী থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, রবিবার সকালেও উভয় পক্ষের কয়েকজনকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় অবস্থান করতে দেখা গেছে। এতে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ময়েনদিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান বিরোধ দ্রুত নিরসন এবং চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
Leave a Reply