বোয়ালমারীতে ইটের রাস্তায় সাড়ে তিন দশকে সংস্কারের ছুৃয়া লাগেনি
শত শত শিশু শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি
বোয়ালমারী প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে খরসূতী সরকারী কলেজ থেকে খরসূতী ঈদগাহ পর্যন্ত ইটের সলিং বিছানো দীর্ঘদিনের পুরাতন খানা-খন্দে ভড়া রাস্তাটির বেহাল অবস্থা হয়ে পড়েছে। শিশু শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
কাঁধে বইয়ের ব্যাগ, চোখে আগামীর স্বপ্ন। কিন্তু স্কুলে যাওয়ার পথে ছোট্ট নরম পাগুলো পদে পদে হোঁচট খাচ্ছে ভাঙা ইটে, কখনো বা ছিলে গিয়ে ঝরছে রক্ত। আর কতকাল কোমলমতি শিশুদের এই অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হবে?
বোয়ালমারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেলজানী-খরসূতী এলাকার মানুষের এখন একটাই দীর্ঘশ্বাস।
একটি মাত্র রাস্তা। নির্ভরতা হাজারো মানুষের
খরসূতী সরকারি কলেজ থেকে খরসূতী ঈদগাহ পর্যন্ত মাত্র আধা কিলোমিটারের একটু বেশি দীর্ঘ এই সড়ক। দৈর্ঘ্যে ছোট হলেও এটিই যেন পুরো এলাকার হৃদপিণ্ড। এই সড়কের পূর্ব প্রান্তে রয়েছে খরসূতী ঈদগাহ ময়দান—যেখানে প্রতি বছর দুই ঈদে ময়না, ঘোষপুর, সাতৈর ও গুনবহাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো মুসল্লি ছুটে আসেন। আরও রয়েছে বেলজানী-খরসূতী কাশেমুল উলুম মাদরাসা, একটি মহিলা মাদরাসা এবং পার্শ্ববর্তী বর্ণী বাজার।
সড়কটির পশ্চিম অংশে রয়েছে খরসূতী সরকারি কলেজ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্দ্র কিশোর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ডাকঘর ও খরসূতী বাজার।
এই একটি মাত্র পথ দিয়ে প্রতিদিন পাশের মহম্মদপুর উপজেলার জাঙ্গালিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল নিয়ে যাতায়াত করেন। বানিয়াড়ী, হাটখোলা, রানীদৌলা-কুঠি, ইচাখালীসহ অসংখ্য গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী এই বেহাল রাস্তাটি।
৩৫ বছরের বঞ্চনা ও নিত্যদিনের ভোগান্তি
রাস্তাটির বর্তমান দশা এককথায় ভয়াবহ।
স্থানীয় বাসিন্দা দৈনিক পুনরুত্থানের সহযোগী ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মিজান উর রহমান জানান, ১৯৯১ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য প্রয়াত জননেতা আব্দুর রউফ মিয়া ফরিদপুর চিনিকলের বরাদ্দে এখানে ইটের সলিং করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকে এখানে আর কোনো সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি।
যত্ন আর সংস্কারের অভাবে রাস্তার ইটগুলো যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। পুরো রাস্তাজুড়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়া এই রাস্তায় সবচেয়ে বেশি চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরা। প্রায়ই তারা হোঁচট খেয়ে রক্তাক্ত হচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলছে তাদের শিক্ষা জীবন।
আশ্বাসের আলো ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা
দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে রাস্তাটি দ্রুত পাকা করার জোর দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। সম্প্রতি ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য ড. ইলিয়াস মোল্লার কাছে রাস্তাটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানানো হলে তিনি দ্রুত এটি পাকাকরণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে ময়না ইউনিয়নের জামায়াত আমীর মো. আবু জাফর সিদ্দিকী জানান, রাস্তাটি পাকা করার বিষয়টি এমপি মহোদয়কে গুরুত্বের সঙ্গে জানানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, পরবর্তী বাজেট এলেই রাস্তার কাজ শুরু হবে।
এখন কেবল অপেক্ষার পালা। এলাকাবাসীর একটাই জিজ্ঞাসা—কবে শেষ হবে এই দুর্ভোগ? কবে একটি মসৃণ পিচঢালা পথে নিশ্চিন্তে হেসে খেলে স্কুলে যাবে আমাদের আগামীর ভবিষ্যৎ?
খরসূতী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ সাদীন উর রহমান সোমবার বলেন, রাস্তাটি পাকা করনের জন্য অনেক বছর ধরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছি। বিভিন্ন নেতাদের কাছে গিয়েছি আজ পর্যন্ত রাস্তার দিকে কারো নজর পড়েনি। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, এলাকাবাসীর ও পথচারীদের চরম কষ্ট পোয়াতে হচ্ছে। সকলের দাবি রাস্তাটি দ্রুত পাকা করনের জন্য।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্ণেন্দ সাহা সোমবার বলেন, রাস্তাটির খারাপ অবস্থা শুনেছি। সামনে গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নে রাস্তাটি ঢুকিয়ে দিয়ে পাকা করণ করার চেষ্টা করবো।
Leave a Reply