বোয়ালমারীতে কুমার নদে নৌকাবাইচ, বৈঠার ছন্দে মাতল রাজাপুর কুমার নদ
বোয়ালমারী প্রতিনিধি:
বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, মাঝি-মাল্লাদের হইহুল্লোড় আর নদীর দুই পাড়ে হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাস- এ যেন ফিরে এসেছিল গ্রামবাংলার চিরচেনা সেই ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের দিন। ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের রাজাপুরে কুমার নদে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটায় রাজাপুর কুমার নদে অনুষ্ঠিত নৌকাবাইচ ঘিরে সকাল থেকেই ছিল উৎসবের আমেজ। বিকেল গড়াতেই নদীর দুই পাড়ে ভিড় বাড়তে থাকে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে ছুটে আসেন গ্রামবাংলার এ ঐতিহ্যবাহী আয়োজন উপভোগ করতে।
নৌকাবাইচ শুরু হতেই মুহূর্তে বদলে যায় কুমার নদের দৃশ্য। পানির বুক চিরে ছুটে চলে একের পর এক প্রতিযোগিতার নৌকা। মাঝিদের তালে তালে বৈঠার আঘাতে নদীর পানি যেন ছন্দে নেচে ওঠে। পাড় থেকে দর্শকদের করতালি, হর্ষধ্বনি ও উৎসাহে জমে ওঠে প্রতিযোগিতা।
শুধু নদীর পাড়েই নয়, ছোট-বড় নৌকা ও ট্রলার নিয়ে নদীতে নেমেও আনন্দে মেতে ওঠেন কিশোর-তরুণরা। বক্সে গান বাজিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় তাদের। সব মিলিয়ে রাজাপুরের কুমার নদ পরিণত হয় এক প্রাণের উৎসবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল ইসলাম।
মো. ফিরোজ মোল্যার সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন মধুখালি সার্কেলের এএসপি মাসুদুজ্জামান মাসুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান, তদন্ত ওসি সহিদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জায় সাহা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসাইন, সহসভাপতি মো. ফজর খাঁ, চিতার বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাকিল মোল্লা, মো. মনির মেম্বরসহ আয়োজক কমিটির সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
নৌকা বাইচে প্রথম হোন মুকসুদপুরের গবিন্দপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাদূর্গাপুর গ্রামে শফিকের বাংলার টাইগার নৌকা। দ্বিতীয় হয়েছেন বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের সত্তার ফকিরের ভাই ভাই জলপরী, তৃতীয় হয় কাশিয়ানী উপজেলার হুগলাকান্দীর আড়পাড়া গ্রামের ওসমান শেখের সোনার তোরী।
আয়োজকরা জানান, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই প্রতিবছর এ নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। নৌকাবাইচকে ঘিরে বসে গ্রামীণ মেলাও। ফলে একদিনের জন্য রাজাপুরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
Leave a Reply