ফরিদপুরে বিষখাইয়ে কৃষককে হত্যা:
আদালত চত্ত্বরে স্বামী হত্যার বিচারের দাবিতে কেঁদে ভাসালো স্ত্রী- ‘যারা আমারে বিধবা করেছে তাঁদের যেন ফাঁসি হয়’
বিশেষ প্রতিনিধি :
আদালত চত্ত্বরে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে দাড়িয়ে স্বামী হত্যার বিচারের জন্য দাড়িয়ে আহাজারিতে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী। তাঁর গগনবিদারী চিৎকারে স্তম্ভিত হয়ে পুরো আদালত পাড়া। আহাজারি করে চিৎকার করে বলতে থাকেন- ‘আমার একটাই ছেলে, ৬ মাস আগে বিদেশে গেছে; বাপের মুখটাও দেখতে পারে নাই। আমারে যারা বিধবা করেছে তাঁদের ফাঁসি চাই, দ্রুত ফাঁসি চাই’।
আজ বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় ফরিদপুর জজ কোর্ট চত্বরে কৃষক ইউসুফ আলী শেখের (৫৫) হত্যাকারীদের ফাঁসি ও অন্য আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্ত্রী ডালিয়া বেগমের পাশাপাশি অর্ধশত এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তাঁরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে দাড়িয়ে জড়িতদের জামিন না দিয়ে দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষ করার দাবি জানান।
নিহত কৃষক ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের চরঅমরাপুর গ্রামের বাসিন্দা। গত ৩ আগস্ট ভোরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। এ ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী ডালিয়া বেগম। পরে এ মামলায় ৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মানববন্ধনে নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন- ‘আমার স্বামীরে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ এখনও তিনজন আসামীকে ধরে নাই। কোন কারনে, কোন শক্তির কারনে জানি না। আমি প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার চাই। তাঁদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দ্রুত ফাঁসি দেওয়া হোক। আমার স্বামীরে যারা তিলে তিলে মারছে আমি তাঁদের ফাঁসি চাই।’
মানববন্ধনে স্থানীয়রা জানান, ইউসুফ আলী শেখ হত্যার প্রায় এক মাস আগে আসামী শামীমের মা আসমা বেগম নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় পুলিশ নিহত ইউসুফসহ ৬ থেকে ৭ জনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর জের ধরে গত ১ আগস্ট সন্ধ্যায় ইউসুফ আলী শেখকে ডেকে নিয়ে দুর্গম চর এলাকায় নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং তাঁকে বিষ খাইয়ে দেয়া হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ০৩ আগস্ট ভোররাতে মৃত্যু হয়। মারা যাওয়ার পূর্বে তিনি একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে জড়িতদের নাম বলে যান। তাঁর বলে যাওয়া ৭ জনকে আসামী করে মামলা করা হয়।
এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করলেও বাকি তিনজনকে এক মাস ৬ দিনেও গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। এছাড়া গ্রেফতার আসামীদের জামিন না দিয়ে দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষ করার দাবি জানান তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দা শাখাওয়াত হোসেন বলেন- ‘আদালত চত্বরে দাড়ানের মূল উদ্দেশ্য আসামীদের যেন জামিন না হয় এবং মাননীয় বিচারক যেন তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত ফাঁসির রায় ঘোষণা করে। এছাড়া চরভদ্রাসন থানার ওসিকে অনুরোধ জানাই বাকি তিনজনকে দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য।’
এদিকে থানা সুত্রে জানা যায়, মামলা দায়েরের পর রাতেই অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে রয়েছে- নিখোঁজ নারী ও সত্তার শেখের ছেলে শামীম হোসেন (২৫) ও মেয়ে ইয়াছমিন আক্তার (৩৪), পাশ্ববর্তী ওকেল মাতুব্বরের ডাঙ্গী এলাকার আক্কাস মোল্যা (৬০) ও ছেলে জুলহাস মোল্যা (৩৫)।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চরভদ্রাসন থানার উপ-পরিদর্শক এনামুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন- ‘এ মামলায় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া বাকি তিনজন আসামীকে গ্রেফতারের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
Leave a Reply