ফরিদপুরে ‘শ্রমিক কল্যাণ’-এর নামে নতুন করে চাঁদাবাজি শুরু: দুই সংগঠনের পকেটে যাচ্ছে ৬০ টাকা
বিশেষ প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে নতুন করে পরিবহন খাতের ‘শ্রমিক কল্যাণ’ ও ‘পরিচালন ব্যয়’-এর নামে গণপরিবহন থেকে টাকা আদায় শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুটি পৃথক শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে প্রতিটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ৩০ টাকা করে মোট ৬০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। যদিও গতকাল টাকা উঠানো শুরু হলে প্রশাসনের তরফ থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়। ফের আজ সকাল থেকে শুরু হয়েছে শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা উঠানো।
সরেজমিনে রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দূরপাল্লা এবং অভ্যন্তরীণ রুটের বাসগুলো মোড় অতিক্রম করার সময় ওই স্থানের দুটি পয়েন্টে দাঁড়িয়ে শ্রমিকরা রসিদ বই হাতে বাসের গতি থামাচ্ছে। এরপর দুটি সংগঠনের নামে নির্ধারিত ৩০ টাকা করে মোট ৬০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা দেরি করলে বাসগুলোকে সেখানে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে।
এসময় অনেকেই অভিযোগ করেন, দেশের মহাসড়কগুলোকে সব ধরনের চাঁদা ও জবরদস্তিমূলক আদায়মুক্ত করার সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এই অবৈধ প্রক্রিয়া আবার সচল করা হয়েছে।
একজন বাস চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এমনিতেই যাত্রী সংকট এবং তেলের দামের কারণে আমাদের ট্রিপ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর মোড়ে মোড়ে যদি এভাবে ৬০ টাকা করে কেটে নেওয়া হয়, তবে আমাদের পকেটে আর কিছুই থাকে না। এই টাকার একটা অংশও সাধারণ শ্রমিকদের কোনো কল্যাণে আসে না।”
এদিকে সচেতন নাগরিক ও যাত্রীরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে বাস থেকে দৈনিক হাজার হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হলে তার চূড়ান্ত প্রভাব পড়বে সাধারণ যাত্রীদের ওপর। কারণ, এই অতিরিক্ত ব্যয়ের অজুহাতে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা অভ্যন্তরীণ রুটে বাসের ভাড়া বাড়িয়ে দিতে পারেন।
এ বিষয়ে ফরিদপুর মালিক সমিতির প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ সোহরাব হোসেন বলেছেন, এমন কোন নির্দেশনা জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে দেয়া হয়নি। গতকাল তারা চাঁদা তোলা শুরু করলে আমি তাদের মানা করলে তারা সেটা বন্ধ করে। এরপর তাদেরকে আমাদের এখানে আসতে বলেছিলাম তারা আসেনি। এভাবে চাঁদা তোলার কোন নিয়ম সড়কে নেই বলে তিনি জানান। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব।
Leave a Reply