ফরিদপুরে মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে
স্বামী-স্ত্রীর তিন বছরের স*শ্র*ম কা*রা*দ*ণ্ড
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি:
ফরিদপুরে মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে মামলার বাদী রিনা আক্তার (৩৭) ও তার স্বামী মামলার এক নম্বর সাক্ষী মাসুদ বেপারীকে (৪৪) তিন বছরের স*শ্র*ম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন স্বামী ও স্ত্রীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ আদেশ দেন।
দন্ডপ্রাপ্ত রিনা আক্তার ও তার স্বামী মাসুদ বেপারী ফরিদপুরে সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের টানচর ওয়াজ হাওলাদারের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা।
রায় প্রদানের পর দ*ন্ড*প্রা*প্ত স্ত্রী ও স্বামীকে পুলিশ প্রহরায় জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
আদালত সুত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টায় বাদী রিনা আক্তার ঘরের বাইরে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বের হলে এক আসামি ঘরের মধ্যে ঢুকে তাকে ধ*র্ষ*ণে*র চেষ্টা করে। ওই বছর ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাদীর স্বামী মাসুদ বেপারী এবং বাদীর ননদের স্বামী শাহাবুদ্দিন বেপারীর উপর হামলার অভিযোগ এনে ১২জনকে আসামি করে দুটি অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন রিনা আক্তার।
আদালতের সরকারি কৌশলী পিপি গোলাম রব্বানী ভুইয়া বলেন, ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নিযাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ মামলাটি দায়েরের অভিযোগ দেওয়া হয়। আদালত এ বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সদরপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলামকে নির্দেশ দেন। মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা গত ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর প্রতিবেদনে মামলাটির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে প্রতিবেদন দেন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই আদালত মামলাটি আমলে নেন। চার্চ গঠনসহ বিভিন্ন পযায় অতিক্রম করে এ মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহনের নির্ধারিত দিন ছিল আজ। আজ আদালত এ মামলা বাদী রিনা আক্তার ও মামলার প্রধান স্বাক্ষী রিনার স্বামী মাসুদ বেপারীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী বশীর চৌধুরী সওয়াল জবাবের সময় আদালত অনুধাবন করতে পারেন এটি একটি সাজানো মিথ্যা মামলা।
সাক্ষ্য ও জেরায় পাওয়া বক্তব্য পর্যালোচনা করে আদালত মামলাটিকে মিথ্যা মামলা হিসেবে ঘোষণা করেন। পরে মিথ্যা মামলা করার অভিযোগে মামলার বাদী রিনা আক্তার ও তার স্বামী মাসুদ বেপারীকে তিন বছরের স*শ্র*ম কা*রা*দ*ণ্ডের আদেশ দেন নারী ও শিশু নিযাতন দমন ট্রাইব্যুনালের জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আসামী পক্ষের আইনজীবী বশীর আহমদ চৌধুরী বলেন, এ মামলার ১২ জন আসামির মধ্যে হামলার ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত না হওয়ায় ১১জনকে আদালত আগেই খালাস দেন। আজ ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে একমাত্র আসামিকেও আদালত অব্যহতি দেন। তিনি বলেন দীর্ঘ জেরায় বাদী ও তার স্বামী অসংলগ্ন কথা বলা আদালত এ এটি একটি মিথ্যা মামলা হিসেবে ঘোষণা দেন এবং মিথ্যা মামলা দায়ের করায় সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করেন।
Leave a Reply