ফরিদপুরে ইউসুফ হত্যাকান্ডে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের ফাঁসানোর অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি :
ফরিদপুরে ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকির (৩৮) হত্যাকান্ড নিয়ে বিএনপি পরিবার ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে হেয়পন্ন করার লক্ষ্যে প্রতিপক্ষের ইন্ধনে অপবাদ ও মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। একই সাথে এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন বিএনপি নেতা ও ফরিদপুর জেলা প্রবাসী দলের সভাপতি মির্জা প্রিন্স ইসলাম। তিনি ফরিদপুর জেলা সদরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মির্জা সাইফুল ইসলাম আজমের আপন ভাই। রাত সাড়ে ৮ টায় চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিনখাঁরহাটে বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা সহ বিএনপির নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা প্রিন্স ইসলাম বলেন- “আমাদের পরিবার দীড়ঘ ১৭ বছর নির্যাতনের শিকার হয়েছে। অনেক লড়াই-আন্দোলনে আমাদের অবদান রয়েছে এবং আমি নিজেও একজন জুলাই যোদ্ধা। কিন্তু দুঃখজনক- বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমি ও আমার পরিবার নোংরা রাজনীতির শিকার হচ্ছে। অন্যায়ভাবে আমাদের মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে এবং বিভিন্ন অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। এই এলাকায় যা কিছু হবে তাতেই আমাদের নামে কেন মামলা দেওয়া হচ্ছে?
তিনি বলেন- সম্প্রতি আমাদের বাজারের ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকির হত্যার শিকার হয়। কিন্তু এই হত্যাকে মূল ঘটনা থেকে সরিয়ে এনে রাজনৈতিকভাবে নেওয়া হয়েছে। তাঁর হত্যাকান্ডের সাথে আমাকে এবং আমার বড় ভাই সহ পরিবারের সদস্যদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, যার কোনো প্রমাণ নেই। আমাদের নেতাকর্মীদেরও ফাঁসানো হচ্ছে।
তিনি বলেন- আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের পরিবার নিয়ে ষড়যন্ত্র করে আসছে। এর সাথে জড়িত রয়েছে বিএনপির নামধারী নেতা আজিজুর রহমান এবং নাজমুল হক। তাঁদের ইন্ধনে ইউসুফের পরিবার আমাদের নামে আদালতে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। আমাদের এমপি চৌধুরী নায়াব ইউসুফ ও সরকারের কাছে দাবি জানাই- এই ষড়যন্ত্র থেকে আমাদের মুক্তি দেন।
এ সময় তিনি ইউসুফ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন- ইউসুফ হত্যার পর থানায় মামলা হয়েছে, পুলিশ তদন্তও করছে। তাঁরা তদন্তে যা পাবেন, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবেন। কিন্তু তদন্ত চলাকালীন উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাদের নাম জড়ানো হচ্ছে। আমরাও চাই, তদন্তে যাদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলবে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে।
এছাড়া সম্প্রতি মমিনখাঁরহাটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমি সহ আমার ১৭ জন নেতাকর্মীর নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। অথচ এসবের কিছুই আমরা জানিনা। দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়ে আজও কেন নির্যাতনের শিকার হতে হবে? আমরা এই ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তি চাই।
এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ইউসুফ হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। একইসাথে বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
এ সময় বক্তব্য রাখেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রেজাউল করিম মোল্লা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল কাশেম, চর মাধবদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ খোকন মোল্লা সহ অনেকে।
প্রসঙ্গত, নিখোঁজের দুইদিন পর গত ১৮ জুলাই সকালে বাড়ির অদূরে একটি পাটখেত থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ইউসুফ ফকিরকে দেখতে পায় স্থানীয়রা। তাৎক্ষণিকভাবে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পরেরদিন কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন নিহতের স্ত্রী বেদেনা আক্তার।
পরবর্তীতে গত ৯ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ১নং আমলী আদালতে ৭ জনের নাম উল্লেখসহ ৫ থেকে ৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে হত্যা মামলা করেন তিনি৷ ওই মামলায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম আজম, তাঁর ছেলে রাব্বী বেপারী (৩২) ও রবিন বেপারীকে (৩০) এবং ছোট ভাই মির্জা প্রিন্স ইসলামকে আসামী করা হয়।
Leave a Reply