ফরিদপুরে শারদীয় আগমনী উৎসব, ধর্মীয় আলোচনা ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠিত
বিশেষ প্রতিনিধি:
দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার শুভাগমন উপলক্ষে ফরিদপুরে অষ্টম বর্ষের শারদীয় আগমনী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় শহরের গোয়ালচামট এলাকার শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গনে শারদীয় সংঘ, ফরিদপুরের উদ্যোগে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এতে ধর্মীয় আলোচনা, চণ্ডীপাঠ, বস্ত্রবিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শারদীয় সংঘের আহ্বায়ক দীপঙ্কর দত্ত। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানাম সম্প্রদায় বাংলাদেশের সভাপতি আচার্য শ্রীমৎ কান্তিবন্ধু ব্রহ্মচারী, শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গনের সাধারণ সম্পাদক ড. শ্রীমৎ নিকুঞ্জ বন্ধু ব্রহ্মচারী, ফরিদপুর ইসকন মন্দিরের ব্যবস্থাপক শ্রীপাদ নকুলানন্দ কানাই দাস, ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ, ফরিদপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মিজানুর রহমান মিনাল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর চৌধুরী রুবেল, শহর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কর্মকার, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলমগীর কবির ভূঁইয়া, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসেন শিথিল এবং ১২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইসমাইল হোসেন লাভলু।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র বেদমন্ত্র, চণ্ডীপাঠ ও গীতাপাঠের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান।
বক্তারা বলেন, ফরিদপুর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি জেলা। এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন। এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তাঁরা আরও বলেন, ফরিদপুরের সব সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদে ও শান্তিতে বসবাস করবেন—এটাই সবার প্রত্যাশা। কোনো অবস্থাতেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার এবং সার্বক্ষণিক সতর্কতা বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা। পাশাপাশি সবার সহযোগিতায় সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্বে শতাধিক অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করা হয়। এ সময় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, শারদীয় সংঘের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য জোরদার করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। ধর্মীয় আলোচনা, চণ্ডীপাঠ, বস্ত্রবিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
Leave a Reply