বোয়ালমারীতে গুনে গুনে টাকা নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বরখাস্ত ভূমি কর্মকর্তা, ‘ঘুষ নয়, ধারের টাকা’ দাবি অভিযুক্তের
বোয়ালমারী প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ইমরান শেখ নামে এক ভূমি কর্মকর্তা অফিসে বসে এক ব্যক্তির কাছ থেকে গুনে গুনে টাকা নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
তিনি বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ‘খ’ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা ও পাশের গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার পোনা বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৬ জুলাই) রাতে জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ও (ঘ) অনুযায়ী অসদাচরণ এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিধিমালার ১২(১) ধারা মোতাবেক ইমরান শেখকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।
এর আগে একই দিন বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় দুই মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের কার্যালয়ে বসে এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে গুনে গুনে ১০টি পাঁচশ টাকার নোট গ্রহণ করছেন ইমরান শেখ। টাকা নেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘মূল দলিল আজকে দেন। আজকে রাতেই আবেদন করে দেব। সামনে রবিবার এসি ল্যান্ড আসবে। ইনশাআল্লাহ দুই সপ্তাহের বেশি লাগবে না।’
ভিডিওতে তাকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সম্পর্কেও মন্তব্য করতে শোনা যায়। তিনি বলেন, ‘উনিও ৪০তম বিসিএস, আমিও ৪০তম বিসিএস। উনার কপাল ভালো, আল্লাহ উনাকে ক্যাডার বানাইছে, আর আমাকে নন-ক্যাডার বানাইছে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইমরান শেখ বলেন, ‘এটি ঘুষের টাকা নয়, ধারের টাকা। সাতৈর বাজারে ব্যবসা করে আমার সম্পর্কে খালাতো ভাই। সে মাঝে মধ্যে আমার থেকেও ধার নেয়, আমিও নেই। ধার নেওয়া টাকা ফেরত দিতে এসেছিল খালাতো ভাই। ভিডিওটি ধারের টাকা ফেরত দেওয়ার সময়ের।’ আরো ৬ থেকে ৭ মাস আগের ঘটনা এটি। তিনি বলেন, এখন তো সবকিছু হয় অনলাইনে, যার যার খাজনা বা ভূমি সংক্রান্ত সবকিছু টাকা নিজেই জমা দিতে পারেন। গ্রামের অনেকেই এসে কাজটি করে দিতে বলেন, সেই কাজের টাকা নিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে অনলাইনে জমা দিয়ে দেই। এ ঘটনাটি কোন ঘুষের লেনদেন নয় বলে তিনি আরো জানান।
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর জেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। তবে ভিডিও প্রকাশের পরপরই জেলা প্রশাসনের সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Leave a Reply