নিখোঁজের তিনদিন পর কুমার নদ হতে কলেজ ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার
নিহত কৌশিক সাহা জিতু ফরিদপুর শহরের সিং পাড়া বতমানে ওয়্যারলেসপাড়া এলাকার কমলেশ সাহার ছেলে। তিনি সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের রসায়ন বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে মায়ের সঙ্গে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে বাড়ি ফেরেন কৌশিক। পরে পোশাক পরিবর্তন করে আবার পূজা দেখতে বের হন। এ সময় মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসার গেটের চাবি সঙ্গে নিয়ে যান তিনি। তবে রাতে আর বাড়ি ফেরেননি।
পরদিন সোমবার (১৯ অক্টোবর) পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় লোকজন কুমার নদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেন। পরে নৌ-পুলিশের ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ি ও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। এ সময় মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল।
নিহতের প্যান্টের পকেটে একটি চাবি পাওয়া যায়। খবর পেয়ে তাঁর বাবা ও স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরনের পোশাক দেখে মরদেহটি শনাক্ত করেন। পরে ওই চাবি দিয়ে বাসার তালা খুলে পরিচয় নিশ্চিত হতে সহায়তা পান তাঁরা।
কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ হোসেন জানান, মরদেহ পচে ফুলে যাওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত করতে পকেটে পাওয়া চাবি দিয়ে বাসার তালা পরীক্ষা করা হয়। এতে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসানসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা। এ সময় অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
Leave a Reply