ফরিদপুরে নিখোঁজের দুই দিন পর কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার, জমি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি:
🔴 অতীতের অপহরণের ঘটনাও তদন্তের দাবি পরিবারের ও স্থানীয়দের
ফরিদপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা দেখতে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর কৌশিক সাহা জিতু (২৩) নামে এক কলেজছাত্রের মরদেহ কুমার নদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
জিতু ফরিদপুর শহরের ওয়্যারলেসপাড়া এলাকার কমলেশ সাহার ছেলে এবং সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের রসায়ন বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যার পর পূজামণ্ডপ দেখতে বের হয়ে তিনি নিখোঁজ হন। পরে ২০ অক্টোবর কুমার নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। তবে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের সর্বশেষ ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
জমি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ
জিতুর মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ফরিদপুরের রথখোলা এলাকার একটি জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা চলছিল। ওই মামলার রায় জিতুদের পরিবারের পক্ষে গিয়েছিল বলেও দাবি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, জমি নিয়ে বিরোধের সঙ্গে জিতুর মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা পুলিশের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই মৃত্যুর সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
দুই বছর আগেও অপহরণের অভিযোগ
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় দুই বছর আগেও জিতুকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাত দিন পর মাগুরা থেকে তাঁকে আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
জিতুর পরিবারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং আগের ঘটনার পুলিশি রেকর্ড পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
একজন কলেজছাত্রের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, মৃত্যুর কারণ, নিখোঁজ হওয়ার আগে জিতুর চলাফেরা, জমি নিয়ে বিরোধ এবং অতীতের অপহরণের অভিযোগ—সব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে।
এ ঘটনায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে তদন্তের আগেই দায়ী করা উচিত নয়। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
জিতুর পরিবারের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করা জরুরি।
Leave a Reply